বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের আইন, রাজনীতি ও সংসদীয় ইতিহাসে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় সাংবিধানিক বিধান ও সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণে তিনি বিশেষ সুনাম অর্জন করেন।
২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। ওই বছরের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার, বর্তমান পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আইনশাস্ত্রে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে দীর্ঘদিন সফলভাবে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতি ও আইনচর্চার পাশাপাশি লেখালেখিতেও তার আগ্রহ ছিল। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। নিজ জেলা পঞ্চগড়ে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখতে তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। তার দুই ছেলেই সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশায় কর্মরত।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন