× UCB Sticker Card
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

শিবচরে টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতঘর, উঠান, ধর্মশালা ও স্থানীয় মন্দির। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এলাকাবাসী। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল, টয়লেট ব্যবহারসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কর্মকাণ্ডই ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে ডুবে রয়েছে। অনেক পরিবার ইট, বাঁশ কিংবা কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করছে। অনেকের রান্নাঘরের চুলাও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রক্ষা পায়নি। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালার ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ধর্মীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, গ্রামের চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল কিংবা কালভার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়ে দিনের পর দিন জমে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় এবং বছরের দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে বিছানাপত্র, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। একই সঙ্গে পানিবন্দি এলাকায় সাপসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিষ্ণু চক্রবর্তী বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মন্দিরে যেতে কষ্ট হচ্ছে, ধর্মশালাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হোক।

আরেক বাসিন্দা দুলর্ভ চন্দ্র পাল বলেন, চারদিকে রাস্তা হয়েছে, কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আমাদের দুর্ভোগ কখনোই শেষ হবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!