ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

চলনবিলে পানি বাড়ায় নৌকা তৈরির ধুম

কায়েম উদ্দিন, সিংড়া
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

ভারী বর্ষণে নাটোরের সিংড়ায় চলনবিল অধ্যুষিত নি¤œাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষার আগমনে বিলের চিত্র বদলে যেতেই শুরু হয়েছে নৌকা তৈরির ধুম। সামনের দিনগুলোতে যাতায়াত এবং মাছ ধরার প্রধান বাহন হিসেবে নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো নৌকা মেরামতের হিড়িক পড়েছে গোটা উপজেলাজুড়ে।

চলনবিল অঞ্চলের আষাঢ়-শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস থাকে বর্ষাকাল। এ সময় গ্রামের পর গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার করা এবং মাছ ধরার জন্য নৌকা হয়ে ওঠে একমাত্র অবলম্বন। তাই বর্ষা মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলে নৌকার কদর কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঠমিস্ত্রিরা নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ তক্তা জোড়া লাগাচ্ছেন, কেউ বা তারকাঁটা ও লোহার পাত দিয়ে কাঠামো মজবুত করছেন। আবার নদীপাড়ের বাসিন্দারা পুরোনো নৌকাগুলোতে আলকাতরা লাগিয়ে বা জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছেন।

পৌর শহরের চকসিংড়া এলাকার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান জানান, তিনি কড়ই, হিজল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। ছোট ডিঙি নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আশা করছি, মৌসুমে ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হবে।’ বর্তমানে কাঠের নৌকা ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং প্লেন সিটের নৌকা ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন বলেন, ‘বিল এলাকায় বসবাস করায় বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল অচল। তবে এ বছর কাঠের দাম ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বেশি হওয়ায় নৌকার দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে।’

কারিগর ও ব্যবসায়ীরাও একই সুর মিলিয়েছেন। কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ও আবদুল কুদ্দুস জানান, সারা বছর কাঠের অন্যান্য কাজ করলেও বর্ষা এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তবে উপকরণ বা সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি।

বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সংকট দূর করতে নৌকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে চলনবিল এলাকায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে নৌকা তৈরির ব্যবসা।