ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

শিশু নিছা মনি হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫ বছর বয়সি শিশু নিছা মনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনায় মাত্র ২৫ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদ- এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা পৃথকভাবে এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ ধোবাউড়া উপজেলার টাঙ্গাহাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২০) এবং আবু সাইম (১৮)। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মারুফ (১৬) নামে অপর আসামিকে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিল।

গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ার টাঙ্গাহাটি গ্রামে ৫ বছরের শিশু নিছা মনি নিখোঁজ হয়। তাকে কংশ নদের তীরের নির্জন কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে চারজন মিলে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য তারা শিশুটির মাথা মাটির নিচে পুঁতে রাখে। পরের দিন ১৫ জুন নিহতের বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের অভিযানে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর তারা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির। ঘটনার ৮ দিনের মাথায় ২৩ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। এরপর আদালত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় রায় প্রদান করলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি বজলুল করিম চৌধুরী এই দ্রুত রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আসামিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই নৃশংসতা চালিয়েছে। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।’

রায় ঘোষণার পর শিশু নিছা মনির বাবা-মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয়।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার পুলিশের বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।