ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় ব্যাহত স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও মাঠ এখন হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। মাঠের পানি উপচে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় বর্তমানে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু এই বিদ্যালয় নয়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার আরও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিশাল খেলার মাঠটি এখন থইথই পানিতে নিমজ্জিত। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পানি সরছে না। এই পরিস্থিতির কারণে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও পোশাকশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে থমকে গেছে জনজীবন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কটিয়াদীর এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হামিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষার কারণে সকালে সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা ও স্কুলজুড়ে পানি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। প্রতিটি মোড়ে যানজট আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাচ্চাদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির মানসিক চাপের মধ্যে এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় তারা দিশাহারা। ভিজে কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ বলেন, টানা বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও মাঠে পানি জমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি বিঘিœত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমাদের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।