বরিশালের মুলাদীতে পুলিশের হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তিন যুবদল নেতাকে আসামি করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও বাকি তিনজন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতাকর্মী। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুন রাতে। ওইদিন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দায়ে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী রাশেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রামারপোল বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফসহ দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে একই দিন রাত ১টার দিকে সেতু ভূঁইয়ার স্বজনেরা কৌশলে পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফের চাবি নিয়ে তা ফেরত দিলেও মূল আসামিকে পুলিশ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ২ জুলাই মুলাদী থানার এসআই মনির হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, তার পুরো পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সুমন বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই যুবদলের রাজনীতি করছি। ঘটনার দিন বাজারে হট্টগোল শুনে উৎসুক হয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু আইন নিজের হাতে নেওয়ার মতো কোনো কর্মকা-ে আমি লিপ্ত ছিলাম না। ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে ষড়যন্ত্র করে আমাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুজ্জামান বাবু ভূঁইয়া মুলাদী উপজেলা বিএনপির সদস্য। এ ছাড়া সুমন ভূঁইয়া ও সিয়াম ভূঁইয়া নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় একাধিক দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে তাদের সক্রিয় বিএনপি সমর্থক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী নেতাদের দাবি, তারা কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একটি পরিকল্পিত ভুলের কারণে তাদের ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে মামলার আসামি করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

