দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নদীর পানি ঢুকে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, আউশ ধানের জমি ও বিভিন্ন ফসলি মাঠ। কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পানি ঢুকেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারীগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধলাই নদীর মোকাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কমলগঞ্জের উজান এলাকার ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নে পানি কিছুটা কমলেও শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, আলীনগর ও পতনঊষার ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলে নতুন করে পানি ঢুকেছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি জেলার স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সেখানেও টানা বৃষ্টির কারণে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী কমলগঞ্জ রেল সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টিপাত কম থাকায় নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। উজানে ভারি বৃষ্টি হলে আবারও পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মোকাবিল এলাকার ওই অংশে কিছু কাজ করার চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

