ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ব্রিজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এলাকাবাসীর ক্ষোভ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের খালসংলগ্ন এলাকায় সরকারি প্রাক্কলন (স্টিমেট) না মেনে একটি আইরন (লোহা) ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে পুরোনো বিম ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুম কাজী। কাজ শুরুর পর থেকেই প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব শেখ বলেন, ‘স্টিমেট অনুযায়ী ব্রিজের প্রতিটি স্লাবে পাঁচটি করে রড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র চারটি। এ ছাড়া ৩ সুতার রডের বদলে ২.৫ সুতার রড দেওয়া হচ্ছে। নতুন বিমের পরিবর্তে পুরোনো ও জরাজীর্ণ বিম বসিয়ে ঝুঁকি নিয়েই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে স্টিমেট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার ও ইউপি সদস্য মাসুম কাজী বলেন, ‘ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ স্টিমেট মেনেই করা হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি।’

কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম (মিস্টার) জানান, অনিকমের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল বলেন, নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছি এবং স্টিমেট অনুযায়ী কাজ না হওয়ার বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। এটি মূলত ৪৪ ফুট দীর্ঘ একটি মেরামত প্রকল্প, নতুন ব্রিজ নির্মাণ নয়। কাজ সঠিকভাবে না হলে আমরা কাজের কোনো প্রত্যয়ন দেব না।’

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’