কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টিতে উঠে যেতে শুরু করেছে ঝালকাঠি পৌর শহরের কয়েকটি সড়কের নতুন সিলকোট। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে শহরের তিনটি সড়কে সিলকোটের কাজ করা হয়। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস চৌমাথা থেকে কলেজ মোড় এবং কামারপট্টি সড়ক থেকে কলেজ খেয়াঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সিলকোট উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ইজিবাইকচালক দুলাল হাওলাদার বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর ভেবেছিলাম সড়কটি অনেক দিন ভালো থাকবে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ উঠে আগের মতো গর্ত হয়ে গেছে। প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ব্যবসায়ী রাকিব বিন বাশার বলেন, নির্মাণকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। বিশেষ করে বিটুমিনের সঠিক অনুপাত বজায় না রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই পাথরের খোয়া ও পিচ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাসিন্দারা জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে সংস্কারকাজ শেষ হলেও এরই মধ্যে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। তারা দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় এনে দ্রুত টেকসইভাবে সড়ক পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রেজভী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দিয়ে দ্রুত সংস্কার করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাহলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনগণও টেকসই সড়ক সুবিধা পাবে।


