× UCB Sticker Card
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

ফুলবাড়ীতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জমিতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মোকাবিলার মাধ্যমে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বীজতলার রোপা আমনের চারা দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লাটিং) তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক। আষাঢ় মাসের প্রথম থেকে শুরু হয়েছে উপজেলার রোপা আমনের বীজতলা প্রস্তুত ও দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লাটিং) তৈরির কাজ। চারা লাগানো শুরু হবে শ্রাবণে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বীজতলার তৈরি করা হয়েছে ৯০৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪ ব্রি ধান-৯৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা ধান-২২, বিনা ধান-২৬, স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা জাতের ধান রয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে উৎপাদন হবে ৯১ হাজার ৫০০ টন ধান।

কৃষি বিভাগ বলছে, বর্ষার অনুক‚ল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার আলাদিপুর, বাসুদেবপুর, মহেশপুর, বারাইহাট, খয়েরবাড়ী, খড়মপুর, আলাদিপুর, মোক্তারপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ত সময় কাটছে কাদামাখা জমিতে। বীজতলা থেকে ২২-২৫ দিনের রোপা আমনের চারা গাছ তুলে দুই-তিনটি করে একত্রে দোগাছি তৈরি করা হচ্ছে। মূল জমির জমে থাকা পানি ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নেমে গেলে দোগাছি চারাগুলো তুলে সেই জমিতে রোপণ করা হবে। এতে চারা গাছ সবল থাকবে। সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করলে গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা সহজ হয়। এ জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটির বেশি চারা না লাগানো এবং অগভীরভাবে রোপণ করাও ফলন বাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আলাদীপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিশ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে। তারপরও নির্ধারিত সময়ে রোপণ কাজ শেষ করতে সবাই মাঠে কাজ করছেন। ভালো ফলন হলে খরচটা পুষিয়ে যাবে।

একই ইউনিয়নের জিয়তগ্রামের গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, রোপা আমন ধানের সাধারণ চারা লাগালে একরপ্রতি যদি ৪০ মণ ধান হয়। দোগাছি করে জমি লাগালে সেখানে ফলন হবে ৫০ মণের ওপরে। দোগাছিতে চারার কাঠি কম লাগে এবং দ্রæত মাটিতে শিকড় লেগে যায়। তাই দোগাছি করে জমি লাগানো দিন দিন বাড়ছে এবং তার সুফল কৃষক পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, রোপা আমন ধানের বীজতলা থেকে ২২ থেকে ২৫ দিনের চারা গাছকে নিরাপদ রাখার জন্য নিরাপদ পদ্ধতি হচ্ছে দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লাটিং)। কারণ জলাবদ্ধতা জমিতে বীজতলা থেকে সরাসরি চারা গাছ রোপণ করলে সেটি পানিতে ডুবে মরে যাবে। এ জন্য চারা গাছকে রক্ষা এবং রিষ্টপুষ্ট করার জন্য উঁচু জমিতে ২২ থেকে ২৫ দিনের চারা গাছ দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লাটিং) হিসেবে লাগিয়ে আবার সেখান থেকে ২২ থেকে ২৫ দিন পর বড় এবং সুস্থ সবল চারা গাছ তুলে পানি নেমে যাওয়া মূল জমিতে রোপণ করা হয়ে থাকে। তবে যেসব ধানের গাছের জীবন কাল বেশি সেই সব ধানের চারা দোগাছি পদ্ধতিতে রোপণ করা যাবে। এরমধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৩৪, স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা দোগাছির জন্য উপযুক্ত। তবে যেসব ধান গাছের জীবনকাল কম সেগুলোকে দোগাছি পদ্ধতিতে চাষ করা যাবে না। 

তিনি বলেন, বীজতলা থেকে চারা তুলে সরাসরি মূল জমিতে রোপণ না করে প্রথমবার অন্য জমিতে ঘন করে লাগানো হয়। সেই চারাগুলো ২২ থেকে ২৫ দিন পর তুলে দ্বিতীয়বার সেগুলো মূল জমিতে রোপণ করা হয়। চারাগুলো দুইবার রোপণ করা হয় বলে এর নাম দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লাটিং)।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!