খাগড়াছড়িতে ৬ পর্যটককে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সেনাবাহিনীর মাটিরাঙা জোনের সদস্যরা তাদের আটক করে মাটিরাঙা থানায় হস্তান্তর করেন।
জানা গেছে, আটকরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন- খাগড়াছড়ির দক্ষিণ গঞ্জপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আতাউর রহমান সুজন (২২), ইসলামপুরের আবুল কালামের ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক দ্বীন ইসলাম পারভেজ (৩০), কলাবাগানের হোসেন আলীর ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন (২৭), তেতুলতলার সুকুমার চাকমার ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুনা প্রীয় চাকমা (৩৬)।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জের খুকসা বাড়ি গ্রামের মুকাদ্দেস (৪০) এবং সিরাজগঞ্জের পুরান বাঙা বাড়ি গ্রামের সেলিম আহমেদ (৫০)। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের বাহীরগুলা গ্রামের অনিক তালুকদার (৪০) এবং মমিন (৩৬) এখনো নিখোঁজ।
অপরদিকে, পুরান বাঙা বাড়ির নিজাম (৩৫) এবং ফেনীর তারেক (২৫) মুক্তি পেয়েছেন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ঢাকা থেকে আসা ছয়জন পর্যটক খাগড়াছড়ি সদরের মাউন্ট-ইন হোটেলে উঠেছিলেন। পরদিন সকালে তারা একটি গাড়ি ভাড়া করে রাঙ্গামাটির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশায় আসা কয়েকজন তাদের গাড়ি থামিয়ে ৩ জনকে মোটরসাইকেলে এবং দুজনকে সিএনজিতে তুলে রাঙ্গামাটির দিকে নিয়ে যায়।
অপহরণকারীরা পর্যটকদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা আদায় করে এবং নিজাম ও তারেককে ছেড়ে দেয়। তবে সেলিম আহমেদকে তারা সঙ্গে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেলিমকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
অন্যদিকে, বাকি তিন জনকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে আসার সময় মাটিরাঙা সেনা জোনের চেকপোস্টে ধরা পড়ে। সেনাবাহিনী তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করেন।