নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় ১৮ বছর ধরে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির সরকারি চাল-গম বিতরণে প্রভাব বিস্তারকারী একটি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে সরাসরি খাদ্যশস্য তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান পরিচালনা কমিটি এবং অসহায়-দুঃস্থ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৬ মেট্রিক টন চাল ও ৮৬ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একটি অসাধু চক্র সরকারি বরাদ্দের চাল ও গম প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছ থেকে কম দামে কিনে বিপুল মুনাফা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটটি প্রতি কেজি চাল ১৫ থেকে ১৬ টাকা এবং গম ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনে সরকারি সহায়তার প্রকৃত সুফল থেকে সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করত।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এবার নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় ওই সিন্ডিকেটের প্রভাব ভেঙে সরকারি খাদ্যশস্য সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরকারি বরাদ্দ বুঝে পেয়েছেন। একই সঙ্গে অতীতে সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে তিন ধাপে উপজেলার ২২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৮৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে এসব খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে ওসিএলএসডি (খাদ্য গুদাম)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদারকি) মো. আসাদুজ্জামান তুহিন বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই পৌঁছে এবং ভবিষ্যতে কোনো সিন্ডিকেট যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন