নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমামের সঙ্গে এক কানাডাপ্রবাসীর স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও অসহায় হয়ে ওই গৃহবধূর মা মোছা. নাজমা আক্তার বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে নিশাত আক্তার (৩০)-এর স্বামী একজন কানাডাপ্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার কারণে নিশাত দীর্ঘদিন ধরে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন (২৬)-এর সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। রিয়াজ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। একপর্যায়ে রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের গোপন পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে যান।
নিশাতের মা অভিযোগে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি স্বর্ণের আংটি, পাঁচটি চেইন, দুটি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এর আগেও স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টেলিভিশন, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।
মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। নোয়াখালীর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা থেকে জানা যায়, তারা গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা সম্পাদনের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। অভিযোগে ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের বাবা খোরশেদ আলম ও মা কুলসুম আক্তারসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন