শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বেড়েছে হাঁসের চাহিদা। স্থানীয় বাজারগুলোয় দেশী হাঁসের উপস্থিতি চোখে পড়ছে, যা রসনাবিলাসীদের আকর্ষণ করছে। শীতকালে হাঁসের মাংসের ভোজ বিশেষ জনপ্রিয়।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক শরৎনগর হাটে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা হাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামের মানুষ তাদের পালনকৃত হাঁস বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এর মধ্যে দেশী পাতিহাঁস, চীনাহাঁস ও রাজহাঁস রয়েছে। সাধারণত মানুষ শীতকালে শক্ত হাড়-মাংসের দেশী হাঁসের মাংস বেশি পছন্দ করে। প্রতি পিচ দেশী পাতিহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৪০০–৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর ধরে হাঁসের মাংসের চাহিদা বাড়ছে। সারা বছরই হাঁস বেচাকেনা হয়, তবে শীতকালে চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ সময় ঘরোয়া অনুষ্ঠান কিংবা শীতের পিঠার সঙ্গে হাঁসের মাংস খাওয়া বেশি হয়।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাষ্টারপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদ মাষ্টার বলেন, ‘শীতে হাঁসের বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় প্রায় প্রতি বাড়িতেই হাঁস পালন বাড়ে। আগে শীত এলেই হাঁসের মাংস খেতেন বয়স্করা, এখন তরুণ-যুবকরাও এ আনন্দ উপভোগ করছেন। শীতকালেই হাঁসের মাংস খাওয়ার সেরা সময়। তাই সবাই হাঁস কিনতে আসে।’
খানমরিচ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভাঙ্গুড়ায় হাঁসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাজারে ভিড় করছেন। শুধু বাজারে নয়, ছোট হোটেল থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁতেও শীতকালে হাঁসের মাংসের চাহিদা বেশি। শরৎনগর হাটে বিক্রির জন্য ৪০টি হাঁস আনলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়।’
চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নুরুজ্জামান সবুজ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ‘হাঁসের মতো জলচর পাখিরা প্রাকৃতিকভাবেই চর্বিযুক্ত। তাদের পেশী ও চামড়ার নিচে চর্বির স্তর থাকে। ঘরোয়া আয়োজনের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ও অনলাইন থেকেও রান্না করা হাঁসের মাংস খাচ্ছেন অনেকে।’



