জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের স্মরণে নামকরণ করা ‘শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবন’ এর নামফলক কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো তা সংস্কার করা হয়নি। শহীদের স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রতি এমন অবহেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার প্রশ্ন উঠছে।
গত ১৭ মে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে ভবনটির নামফলক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও নামফলকটি পুনঃস্থাপন কিংবা সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে শহীদ সাজিদের নাম শুধু একটি ভবনের নাম নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেগ ও গৌরবের অংশ। সেই নামফলক দীর্ঘদিন ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকা শহীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাইদ আনসারী বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাজিদ ভাই আমাদের আবেগের জায়গা, বিশ্ববিদ্যালয় উনার জন্য উল্লেখযোগ্য বলতে কেবলমাত্র এই ভবনটির নামকরণ করেন অথচ এক মাসের উপর ভেঙে পড়ে আছে নামফলকটি, সত্যিকার অর্থেই কি আমরা তাকে তার যোগ্য সম্মান টুকু দেখাতে পেরেছি বা আদৌও কি ধারণ করতে পেরেছি তাকে, তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এত অবহেলা কেনো। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন শত শত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ভবনটিতে যাতায়াত করলেও ভাঙা নামফলকটি এখনো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত ত্রুটি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও শহীদ স্মৃতির প্রতি দায়িত্ববোধেরও একটি পরীক্ষা।
অন্যদিকে সম্প্রতি ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবনটির প্রকৃত নাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না। নামফলক অনুপস্থিত থাকায় অনেকের কাছেই এটি এখনো ‘বিবিএ বিল্ডিং’ হিসেবেই পরিচিত। ফলে শহীদ সাজিদের নামের সাথে যে জবিয়ানদের আবেগ রয়েছে, তা নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সাজিদ ভবনের নাম ফলকের কাজ চলছে, এটার যে অংশটা ভেঙে গিয়েছিল সেটা আজকের মাঝেই মেরামত সম্পন্ন হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবন’ রাখা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভবনটির নামকরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদন দেয়।

