ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

‘জুলাই ভরে দেব’ বলে নুরের ওপর হামলা: ইয়ামিন মোল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০৭:৩১ এএম
বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তা আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘তোকে জুলাই ভরে দেব’—এই হুমকি দিয়ে নুরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কারা জুলাই সহ্য করতে পারে না, আপনারা তা জানেন। যারা জুলাই সহ্য করতে পারে না তারাই এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর—এটা এখন পরিষ্কার। নুরের ওপর লাঠি ও বুট দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে। একজন নুরের যদি এই পরিণতি হয়, তাহলে জুলাই আন্দোলনের সাধারণ কর্মীরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছেন তা সহজেই অনুমেয়।’

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘নুর বাংলাদেশের সাহসের প্রতীক। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তিনি বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা ভেবেছিলাম পতনের পর সেই জুলুম শেষ হবে। কিন্তু আজ আবারও সেনা ও পুলিশ বাহিনী মিলে তার ওপর একই কায়দায় হামলা চালিয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জাপাকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘আজকের ঘটনার পর জাতীয় পার্টিকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। যদি তা না হয়, তবে ছাত্ররা আবার জুলাই ঘটাবে।’

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, ‘পুলিশ তাদের পুরোনো আচরণই বজায় রেখেছে। তারা আজ নুর ভাইয়ের ওপর যেমন হামলা চালিয়েছে, কয়েকদিন আগে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপরও একইভাবে হামলা চালিয়েছিল।’

ছাত্রনেতা মাহিন সরকার বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্রলীগের গেস্টরুম-গণরুম কালচারে অতিষ্ঠ ছিলাম, তখন অল্প কজন মানুষ এই রাজুতে এসে দাঁড়াতেন—আর তাদের নেতৃত্ব দিতেন নুর ভাই। আগামীতে আর কোনো জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা হলে গদি কেঁপে উঠবে।’

এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন—‘জাতীয় পার্টির ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ফ্যাসিবাদের চামড়া তুলে নেবো আমরা’, ‘জিএম কাদেরের চামড়া তুলে নেবো আমরা’, ‘আপা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে’।