মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্ভাবন, সঙ্গীত, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে দেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকানরা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক জিতেছে এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছে।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারা আমাকে একটিও দেয়নি।’
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ‘আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি’ করেছেন, তবুও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি। তবে সমালোচকদের মতে, এটি এমন একটি অতিরঞ্জিত দাবি, যা তিনি বিভিন্ন সময়ে করে থাকেন।
বর্তমানে ৪২০ জনেরও বেশি নোবেল বিজয়ী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি এবং শান্তিতে মানবজাতির কল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কার দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের আগ্রহের বিষয়। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই তিনি প্রকাশ্যে এই পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা একাধিকবার ব্যক্ত করেছেন। জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য কাউকে তিনি ভাবতে পারেন না।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্রতীকী উদ্যোগের কথা আলোচনায় আসে। তবে নোবেল কমিটি দ্রুতই জানিয়ে দেয়, এটি কেবল একটি প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি; আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার ও তার স্বীকৃতি কেবল নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঘোষিত বিজয়ীর সঙ্গেই যুক্ত থাকে।
এক বিবৃতিতে কমিটি জানায়, পদক, ডিপ্লোমা বা অর্থ যার কাছেই থাকুক না কেন, ইতিহাসে নোবেল বিজয়ী হিসেবে কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামই লিপিবদ্ধ থাকবে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, নিজের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের কাছেও সুপরিচিত। গত আগস্টে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক সহযোগী বলেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারকে ‘ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার চূড়ান্ত স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখেন।
ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইজন দায়িত্ব পালনরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন—উড্রো উইলসন (১৯১৯ সালের পুরস্কার, প্রদান করা হয় ১৯২০ সালে) এবং বারাক ওবামা (২০০৯)।
এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রসিকতা করে লেখেন, তিনি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করছেন, কারণ ট্রাম্প ‘অন্তত ৩৮ বার’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দাবি করেছেন।
হান্টার ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট একই যুদ্ধ এতবার শেষ করেননি। আর সেই যুদ্ধ শেষ করার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এমন কীর্তি নিশ্চয়ই নোবেল কমিটির স্বীকৃতির দাবিদার।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন