যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আঙ্কারা সফরের আগে তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আঙ্কারার হাতে এই উন্নত যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্ক এখনও সাইপ্রাস দ্বীপের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পাশাপাশি দেশটির নেতারা প্রকাশ্যে জেরুজালেম দখলের মতো বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক ও সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করা উচিত হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আঙ্কারা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অবস্থানও নেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক ক্রমেই বৈরিতার দিকে গেলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে বাস্তববাদী ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে সেই সম্পর্কের মোড় ঘুরতে শুরু করে চলতি শতাব্দীর প্রথম দিক থেকেই।
রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ২০০০-এর দশকের শুরুতে ক্ষমতায় আসার পর ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার হন। এরপর থেকেই আঙ্কারা ও তেল আবিবের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক এই মন্তব্য সেই টানাপোড়েনের আরেকটি প্রকাশ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

