ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মাকাসারে আঞ্চলিক সংসদ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
মাকাসার সিটি কাউন্সিলের সচিব রহমাত মাপাতোবা শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গত রাতের ঘটনায় দুজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। সবাই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে জখম হয়েছেন। এরইমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী জাকার্তাসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরে শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ চলছে। এর আগে পশ্চিম জাভার রাজধানী বানদুংয়ে বিক্ষোভকারীরা একটি ব্যাংক ও রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক ভবনে আগুন দেয়। এক ডেলিভারি কর্মী পুলিশের গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার পরই শুরু হয় আন্দোলন। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
শুক্রবার জাকার্তায় শত শত বিক্ষোভকারী মোবাইল ব্রিগেড কর্পস আধাসামরিক পুলিশ ইউনিটের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হন। ডেলিভারি কর্মীকে গাড়িচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। পরে বিক্ষোভকারীরা সদর দপ্তরের গেট ভাঙার চেষ্টা করেন।
শনিবার স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তরুণ বিক্ষোভকারীরা আবারও সদর দপ্তরের দিকে যাচ্ছিল, তবে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেলিভারি চালকের মৃত্যুর ঘটনায় সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টেম্পো জানিয়েছে, বিক্ষোভে আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি।
এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শাসনামলে সবচেয়ে বড় ও সহিংস বিক্ষোভ। ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা তার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহত চালকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘বিক্ষোভ অরাজক কর্মকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে।’