ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান

শূন্যরেখায় ২৮ মানবের অমানবিক জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) তীব্র গরম ও বৃষ্টিতে ভিজে চরম অমানবিক অবস্থায় রয়েছেন ওই ২৮ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আরিফুজ্জামান। ভুক্তভোগীদের এই দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬টি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের জওয়ানরা এই পুশইনের চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির একটি চৌকশ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এর ফলে ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল দুপুরে দুই দেশের কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক হয়। এতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। বাংলাদেশি কোনো নাগরিক ভারতে অবস্থান করে থাকলে, দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আইনি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে; কিন্তু রাতের আঁধারে কাউকে পুশইন করা যাবে না। অন্যদিকে বিএসএফ জানায়, তাদের দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা ওই ২৮ জনকে ভারতে ফেরত নেবে না।

দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় পতাকা বৈঠক। তবে বিজিবির মানবিক অনুরোধে দুপুরে বিএসএফের পক্ষ থেকে আটকেপড়াদের খাবার সরবরাহ করা হয়।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকে সীমান্ত এলাকায় তুমুল বৃষ্টি শুরু হলে শূন্যরেখায় থাকা নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে একটি আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায় তাদের। এ সময় শূন্যরেখা থেকে তাদের কান্নার আওয়াজও শোনা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও শামিম জানান, বিএসএফ জোর করে পুশইনের চেষ্টা করছে। তারা কেবল মুসলমান হওয়ার কারণেই ভারতের এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ বিজিবির পাশে থেকে সীমান্ত পাহারায় সহযোগিতা করছেন এবং বিএসএফের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘গভীর রাত থেকে ভয় ও শঙ্কার মধ্যে শূন্য লাইনে আটকে আছেন এই ২৮ জন মানুষ। খাওয়া-দাওয়া ছাড়া, গরমে এবং বৃষ্টিতে ভিজে তাদের মানবেতর জীবন পার করতে হচ্ছে।’

বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘গোমস্তাপুর সীমান্তে পুশইনের ঘটনায় আমরা ২৮ জনকে আটকে দিয়েছি। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে নাÑ এই বার্তা আমরা পতাকা বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছি। বিএসএফ ওই স্থান থেকে তাদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে ও সতর্ক পাহারায় থাকব।’