ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

সিএনএনের বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের ধাক্কায় কোণঠাসা ট্রাম্প

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৫:৪৭ এএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন ক্ষমতা খর্ব করার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। স্থানীয় সময় গত বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সির জন্য অন্যতম বড় একটি ধাক্কা বা ‘তিরস্কার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে ক্রমান্বয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিন ভোটগ্রহণের ঠিক আগে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান স্পিকার মাইক জনসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ হবে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’। এটি ইরান যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে।

তবে স্পিকারের এই আহ্বান উপেক্ষা করেই ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সদস্য প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাব এখন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ বা সিনেটে পাঠানো হবে। জানা গেছে, ১০০ জন সিনেটরের মধ্যে ৫০ জন প্রস্তাবটিতে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। ফলে সিনেটেও যদি এটি পাস হয়, তাহলে ট্রাম্পকে হয় ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, না হয় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।

এদিকে ওয়াশিংটন বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, হোয়াইট হাউস এই আইনি প্রক্রিয়াকে খুব বেশি গুরুত্ব না-ও দিতে পারে এবং প্রস্তাবটি উপেক্ষা করার চেষ্টা করতে পারে।

তবে সামনের দিনগুলোতে আইনি লড়াইয়ের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, বুধবারের ভোটাভুটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেÑ ট্রাম্প এবং তার শুরু করা ইরান যুদ্ধ নিয়ে খোদ রিপাবলিকানরাই এখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। প্রতিনিধি পরিষদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার জন্য আর বাড়তি সময় দিতে রাজি নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ দলের আইনপ্রণেতারা বিরুদ্ধে যাওয়ায় ট্রাম্প ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে তার জনপ্রিয়তার সূচকও ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। এর ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নিয়েছে, যা থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোনো সহজ পথ ট্রাম্পের সামনে খোলা নেই। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প এমন ভাব দেখাচ্ছেন, যেন পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে এবং হাতে অঢেল সময় রয়েছে।

সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসকদের মধ্যে নমনীয়তার কোনো লক্ষণ নেই এবং মার্কিন সামরিক হামলার হুমকিকেও তেহরান পাত্তা দিচ্ছে না।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই আশ্বাসের ওপর খোদ মার্কিন আইনপ্রণেতারাই আর ভরসা রাখতে পারছেন না, যার বড় প্রমাণ নিজ দলের সদস্যদের এই ‘বিদ্রোহ’। এখন যদি সিনেটেও একই দৃশ্যের অবতারণা হয়, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতিতে আরও বেশি কোণঠাসা ও বাক্সবন্দি হয়ে পড়বেন।