ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ

খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

টানা ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদের দুটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং গবাদিপশু, আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় এবং সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল ও বনদক্ষিণ এলাকার একটি অংশসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার অনেক বাড়িঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদের ভাঙন আবারও তীব্র হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাও এখন হুমকির মুখে। এ ছাড়া খোয়াই নদের মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত কাজ করছেন। তাদের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, খোয়াই নদের চুনারুঘাট বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মাইকিং করে দুর্গতদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দুর্গতদের জন্য উদ্ধার কার্যক্রমের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত এলাকাগুলোতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।