প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন কৌশলে গাঁজা চাষের এক অদ্ভুত চিত্র উঠে এসেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী গ্রাম দক্ষিণ বাঁশজানিতে। একটি সুপারিবাগানের ভেতরে বিশেষ কায়দায় ‘গ্রিনহাউস’ তৈরি করে সেখানে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ গাঁজা চাষ। খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গাঁজার গাছ জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক কারবারিরা মূলত ভারতীয় গাঁজার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবেই বিকল্প বাজার তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে তারা এমন একটি এলাকা বেছে নিয়েছে, যা নজরদারি করা বেশ কঠিন। সুপারিবাগানের ভেতরে রোদ ও বৃষ্টি থেকে গাছগুলো সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ তাপ ও বৃষ্টি প্রতিরোধী স্বচ্ছ বেষ্টনী। যেন বাইরের কেউ বাগানের ভেতরটা খেয়াল করলেও বুঝতে না পারে ভেতরে গাঁজা চাষ হচ্ছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে সার এবং বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠছিল নিষিদ্ধ এসব গাছ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় অভিযুক্ত মাদক কারবারি বাবা জামাল উদ্দিন ও ছেলে রুবেল হোসেন পুলিশের উপস্থিতি আগেভাগেই টের পেয়ে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত সীমান্তের কাঁটাতারের নিচে থাকা ড্রেনেজ লাইন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদক কারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা শুধু পাচারকারী নয়, এখন নিজেরাই উৎপাদনকারী হয়ে উঠছে। খবর পেয়ে গাঁজাগাছ উদ্ধার ও গ্রিনহাউসের বেষ্টনী জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

