× UCB Sticker Card
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

গাজীপুরে আলোচিত সাইফুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার ২২ দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম (৪৯) কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আলফাজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তর এলাকার বেড়িবাঁধ সড়কে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১ জুন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা সাইফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মুখমণ্ডল ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মুখমণ্ডল বিকৃত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর ৩ জুন কালীগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহীম শেখ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মামলাটির রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) প্রদান করেন। পরে মামলার তদন্তভার ডিবির এসআই মো. আবুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৫০), মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং মো. আবু তাহেরকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবু তাহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রধান অভিযুক্তদের একজন রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে মাদক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিকবার বিবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, রেজাউল করিম ও আবু তাহের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রেজাউল করিম, নাঈম মিয়া ও আবু তাহের পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে কালীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তরসোম এলাকার বেড়িবাঁধ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দীর্ঘ ২২ দিনের তদন্ত শেষে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে মামলার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

Link copied!