× UCB Sticker Card
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৫ শিক্ষার্থী। ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর এ/৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে একটি মাদ্রাসা ও তার ওপর থাকা মক্তবের অংশ মাটিচাপা পড়ে। এ সময় ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত ৫ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেষ হয়। ঘটনাস্থলে এপিবিএনের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন আরআরআরসি কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের ঢালে মাটি ভরাট করে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে হঠাৎ ধসে পড়লে ভবনটি মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আরও ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

আরআরআরসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মানবিক সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে একই দুর্যোগে কক্সবাজার সদর উপজেলার সাত্তারঘোনা, দরিয়ানগর এবং পেকুয়ার পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

অবিরাম বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের পাদদেশ, পাহাড়ের ঢাল এবং বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। সহায়তার প্রয়োজন হলে ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Link copied!