ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রোগাক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে ১২ জন অসুস্থ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনালী গ্রামে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়ার পর অন্তত ১০ থেকে ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের শরীরে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গ্রামের কয়েকজন মিলে গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করেন।

মাংস কাটা, রান্না ও খাওয়ার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে একই গ্রামের রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাছ আলী জানান, ছয়জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। 

তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগের প্রকৃত ধরন নিশ্চিত হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গরুটি তরকা রোগে আক্রান্ত ছিল।

তিনি আরও জানান, গত বছর উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার গরুকে তরকা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর চলনালী গ্রামের গবাদিপশুগুলোকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জবাই করা গরুর কিছু মাংস সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল, যা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপনে জবাই না করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।