× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

সিডনিতে ড. অরূপ রতন চৌধুরীকে ঘিরে ‘গুণীজন সংবর্ধনা’ রোববার

সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী এবং জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীকে সম্মান্ননায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজন করা হয়েছে ‘গুণীজন সংবর্ধনা ২০২৬’। চিকিৎসা, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও জনস্বাস্থ্য—এই চারটি ক্ষেত্রে দীর্ঘ কয়েক দশকের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক. এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।

আগামী রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১টায় সিডনির লেকেম্বা, ৫১ রেলওয়ে প্যারেডে অনুষ্ঠিত আয়োজনে সংবর্ধনা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মধ্যাহ্নভোজকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক-এর সভাপতি মো. জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী কেবল একজন চিকিৎসক নন; তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবসেবা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার মতো একজন গুণী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে পারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তার জীবন ও কর্ম তুলে ধরা এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই এই সংবর্ধনার মূল লক্ষ্য। তার মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করবে।

জানা যায়, ১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. অরূপ রতন চৌধুরী। কৈশোর থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাধীনতার পর তিনি চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট স্টোনি ব্রুক এবং ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ইব্রাহিম কার্ডিয়াক মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দন্ত চিকিৎসা নিয়ে তার গবেষণা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। দন্তবিজ্ঞান, ডায়াবেটিস, তামাক ও মাদকবিরোধী সচেতনতা নিয়ে তার প্রকাশিত বই ও গবেষণাপত্র চিকিৎসা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মাদক ও ধূমপান নিরোধ সংস্থা ‘মানস’। সংগঠনটির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তরুণদের মধ্যে মাদক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি তিনি একজন স্বনামধন্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সমাজ ও জনস্বাস্থ্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেন। পরে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক প্রদান করে। এছাড়া অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন, অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর জীবনসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, চিকিৎসাসেবা, সংস্কৃতিচর্চা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের মতে, সিডনির এই সংবর্ধনা শুধু একজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর অনুষ্ঠান নয়; বরং প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!