চলমান বিশ্বকাপে রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের হেক্সা শিরোপা মিশনের মূল ভরসা ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পুরো টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে চার গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে নিজের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে নকআউট পর্বে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে সেলেসাওদের।
আর এই হারে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা পৌঁছে গেল দীর্ঘ ২৮ বছরে। দলের এমন আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায়ে ভেঙে পড়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ভক্ত-সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা উইঙ্গার।
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে কিছুটা সময় নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রায় চার বছর পর, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার এক চরম হতাশার মুখোমুখি হয়ে আবারও কী লিখব, সেই ভাষা খুঁজে বেড়াচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব বয়সী অসংখ্য মানুষকে আমি আমাদের সমর্থন করতে এবং আমাদের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরতে দেখেছি। তাই এই মুহূর্তে চুপ থাকাটা ভক্তদের প্রতি অন্যায় হবে। তবে নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য আমার কয়েকটা দিনের প্রয়োজন ছিল।’
গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে এভাবে বিদায় নেওয়ার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই খুব কঠিন।’
সমর্থকদের আশাহত করায় দুঃখ প্রকাশ করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি জানি আমি এই টুর্নামেন্টের জন্য কতটা কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম। আমার পরিবার এবং আপনাদের সবার মুখে হাসি ফোটাতে আমি এটা কতটা তীব্রভাবে চেয়েছিলাম।’
তবে হতাশা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘হতাশার এই অনুভূতিটা খুবই তীব্র। আমাদের দলটা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আরও অনেক দূর যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা পারিনি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। বিশ্বের চূড়ায় পৌঁছানোর আমাদের এই যে যৌথ স্বপ্ন, সেটির জন্য আমি আবারও লড়াই করব।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন