তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। জানাজা শুরুর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন। এ সময় কেউ কেউ খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ারও দাবি জানান।
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। চারদিক থেকে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’—এমন স্লোগান ধ্বনিত হয়। অনেকেই বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের বেশ কয়েকটি ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা প্রকাশ করেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, কেউ কেউ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানো প্রতীকসংবলিত পোস্টার বহন করছেন।
একটি ছবিতে দেখা যায়, জনসমুদ্রে বহন করা একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে—‘পুরস্কার ১০ কোটি ডলার। ট্রাম্প! ইরানের জনগণ শিগগিরই আপনাকে হত্যা করবে।’ তেহরানের বিভিন্ন সড়কের পাশেও একই ধরনের ব্যানার টানানো হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবিতে পথচারীদের লাথি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।
জানাজার নামাজের আগে সমবেত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের কবি মোহাম্মদ রাসুলি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এরপর তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার জেরে ইরানের জনমনে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন