আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই ৯ জেলার ফল প্রকাশের ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েস। সাময়িক বরখাস্ত হলেও বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন তিনি।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণের অভিযোগে মো. মেহতাব কায়েসকে গতকাল শুক্রবার সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে ওই দিন ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার ফলাফল নির্ধারিত লিংকগুলোয় আপলোড করা হয়। এরপর লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিপিই। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ডিপিইর এক আদেশে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল ৮ জুলাই প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য তাকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ জুলাই সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোয় আপলোড করা হয়। লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল ডাউনলোড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল মানা হয়নি। এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ফলাফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যায়। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সই করা এক চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করা হয়।
এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’Ñ এ দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।
পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরীক্ষা হয়। আর পার্বত্য তিন জেলাÑ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।

