ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে স্থবির রাজধানী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:০৬ এএম

টানা বৃষ্টিতে থমকে গেছে রাজধানী ঢাকাবাসীর জীবন। বৃষ্টির কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি কেউই। গতকাল শুক্রবার খিলক্ষেত, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় সড়কগুলোতে জমে আছে হাঁটুপানি। হঠাৎ এমন জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মতিঝিল, নয়াপল্টন, মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়, কোথাও কোথাও তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। বৃষ্টির পানির সঙ্গে সড়কের ময়লা-আবর্জনা মিশে পরিবেশও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে হঠাৎ সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেক সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হতে পারেননি। রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও বাড়তি ভাড়া দাবি করায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। কোথাও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আবার পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

বৃষ্টি থাকবে আরও ৫ দিন : দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিভারি বর্ষণেরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।  বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে হচ্ছে আষাঢ়ের বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় চট্টগ্রামে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাত ১টার মধ্যেই দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়।

এদিকে পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বেশি রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী বুধবার খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।