ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

যাত্রীছাউনি দখল

রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগে যাত্রীরা

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:৫১ এএম

নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অর্থে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো এখন আর যাত্রীদের কাজে আসছে না। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ায় এই ছাউনিগুলো এখন যাত্রীসাধারণের জন্য প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে রোদ, ঝড় ও বৃষ্টির দিনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ যাত্রী।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের ব্যস্ততম নাকশী বাসস্ট্যান্ডে জেলা পরিষদের নির্মিত যাত্রীছাউনিটি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকাগামী বাসের টিকিট কাউন্টার। ছাউনির ভেতর মানুষের জায়গা তো নেই-ই, বরং কাউন্টারের দখলে থাকায় যাত্রীরা সেখানে দাঁড়ালেই বিরূপ আচরণের শিকার হন। একই চিত্র দেখা গেছে লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ডেও। সেখানে ছাকিব শেখ নামের এক ফল ব্যবসায়ী যাত্রীছাউনিটিকে কার্যত গুদামে পরিণত করেছেন। ছাউনির ভেতরে ফলের কার্টুন, ক্যারেটসহ দোকানের বিভিন্ন সরঞ্জাম ঠাসাঠাসি করে রাখায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। মশা ও মাছির উপদ্রবে ছাউনির কাছে যাওয়াই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা মূলত যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এখন এগুলো ব্যক্তিগত ব্যবসার স্থানে পরিণত হয়েছে। ঢাকাগামী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, বসার মতো একটু জায়গা নেই। বৃষ্টি শুরু হলে ছাউনির নিচে দাঁড়ানোর উপায়ও নেই। সরকারি টাকা খরচ করে বানানো ছাউনি এখন দখলদারদের কবজায়।’ উপস্থিত অন্য যাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পারে, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা নির্বিকার।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যাত্রীছাউনি দখল করার বা সেখানে দোকান বসানোর কোনো বৈধ সুযোগ নেই। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং ছাউনিগুলো পুনরায় যাত্রীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে নিরাপদে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে পারে।