ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জন্য এক পক্ষ হামলার অভিযোগ তুললেও অপর পক্ষ দাবি করছে, নিহত ব্যক্তি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন এলাকায় নেশাজনিত বিষয় ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে ২৮ জুন ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষের সময় আহত হন বগুড়া গ্রামের মৃত আদালত মোল্লার ছেলে একেন মোল্লা (৬৫)। প্রথমে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নিহতের ভাই সেকেন মোল্লার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবার কিছুদিন ধরে সামাজিক চাপের মধ্যে ছিল। ঘটনার সময় একেন মোল্লা শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হামলার সময় তিনি আহত হন এবং পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, একেন মোল্লা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলেও তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শৈলকুপা থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকা শান্ত এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো পক্ষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে বিভাজন বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই উচিত। প্রশাসনও বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন