গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা, বিআরটিএর জাল কাগজপত্র তৈরি এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ। তার কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল, বিপুল পরিমাণ পুলিশি সরঞ্জাম, জাল পরিচয়পত্র, বিআরটিএর জাল সিলমোহর ও ভুয়া নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাহেব আলী পাঠান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটক ব্যক্তি হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার টিকারী এলাকার মো. আবু বক্কর খাঁনের ছেলে মো. রুবেল খাঁ (২৮)। তিনি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার পেয়ারাবাগান রোডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) এসআই মো. হারিছুর রহমানের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে রুবেল খাঁকে আটক করে।
তল্লাশিতে তার বাসা থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল, পাঁচটি ল্যাপটপ, তিনটি প্রিন্টার, চারটি কিবোর্ড, মোটরসাইকেল চুরিতে ব্যবহৃত একটি মাস্টারকি, চারটি হেলমেট, একটি প্রেস মাইক্রোফোন, একটি পুলিশ ভেস্ট, একটি হ্যান্ডকাফ, পুলিশের বুট, বেল্ট, দুটি ফিল্ড ক্যাপ, একটি পিস্তলের কভার, একটি সিগন্যাল লাইট, একটি ওয়াকিটকি সেট, নয়টি গ্রামীণফোন সিম ও দুটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এর দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র, ‘এসআই/রুবেল খাঁ’ লেখা ১২টি ভিজিটিং কার্ড, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ২৭টি স্টিকার, বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বরযুক্ত আটটি ভুয়া কর পরিশোধ সনদ, একটি জাল অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ, ১১টি জাল ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয়পত্র এবং বিআরটিএর পাঁচটি জাল সিলমোহর।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া সিলমোহরের মধ্যে বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের কর্মকর্তার নামসংবলিত সিল, বিআরটিএর গোল সিল, রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের সিল এবং এনসিসি ব্যাংকের একটি জাল গোল সিলও রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকা ও টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযান চালিয়ে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, রুবেল খাঁ কোনো সরকারি কর্মচারী নন। তিনি পুলিশের পোশাক, সরঞ্জাম ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেকে এসআই এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। একই সঙ্গে বিআরটিএর জাল সিলমোহর ব্যবহার করে মোটরসাইকেলের ভুয়া নিবন্ধন কাগজপত্র তৈরি এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করতেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গাছা থানায় রুবেল খাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তার সহযোগী ও চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন