প্রতিদিন চুল ধোয়ার জন্য আমরা ব্যবহার করি বিভিন্ন নামের শ্যাম্পু। যদিও অনেকেই মনে করেন প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় যেখানে গরম এবং আর্দ্রতা বেশি। তবে কেশ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক উপায়ে প্রতিদিন চুল ধোলেও এটি চুলের সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেশ পরিচর্যার প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ড ‘কালিস্টা’র প্রতিষ্ঠাতা এবং কেশ-পরিচর্যাবিদ মারিয়া ম্যাককুল এ বিষয়ে নতুন ধারণা দিয়েছেন। ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, আজকাল শ্যাম্পু পণ্যগুলোর গুণগত মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত, ফলে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে চুলের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আগে প্রচলিত শ্যাম্পুগুলো সালফেট-সমৃদ্ধ ছিল, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিতো। এর ফলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ত এবং বিশেষজ্ঞরা কম শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। তবে বর্তমানে ‘হেয়ার কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি’ অনেক উন্নত হয়েছে। আজকালকার শ্যাম্পুগুলো সালফেটমুক্ত এবং এতে চুলের জন্য উপকারী উপাদান যেমন ‘সপ্যালমেটো’, ‘রেড ক্লোভার’ এবং ‘উইলো হার্ব’ থাকে।
মারিয়া ম্যাককুল বলেন, নিয়মিত চুল ধোয়ার মাধ্যমে মাথার ত্বক থেকে মৃত কোষ, ধুলাবালি এবং ঘাম দূর হয়, যা চুল বৃদ্ধিতে সহায়ক। আপনি যেমন প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করেন, ঠিক তেমনি চুলও নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত, বিশেষত যারা ব্যায়াম করেন বা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য প্রতিদিন চুল ধোয়া জরুরি।
একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, বেশি শ্যাম্পু করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তবে বাস্তবে, অপরিষ্কার মাথার ত্বকে ডিএইচটি (ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন) হরমোন জমে যায়, যা চুলের ফলিকল বা গোড়া বন্ধ করতে পারে এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত চুল ধোলেও চুল পড়ার হার কমে আসবে।
এ ছাড়া চুলের গোড়া পরিষ্কার না রাখলে খুশকি, চুলকানি, এবং ফাঙ্গাস সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
সালফেটমুক্ত, পুষ্টিগুণসম্পন্ন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে এবং চুলে খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা এড়ানো উচিত, কারণ এটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করতে পারে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে শুষ্ক চুলের জন্য। চুল ধোয়ার সময় মাথার ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করতে হবে, যাতে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং চুল বৃদ্ধি পায়।
চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন
তেলতেলে চুল- প্রতিদিন মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়।
শুষ্ক চুল- দু-তিন দিন পরপর শ্যাম্পু করা ভালো এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত।
কার্লি বা কোঁকড়ানো চুল- হাইড্রেটিং শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করা উপকারী।
সংবেদনশীল মাথার ত্বক- সালফেট-মুক্ত, প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
বাজারে কিছু ভালো মানের সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুর মধ্যে রয়েছে ট্রেসেমে কেরাটিন স্মুথ, ডাভ অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ, লোরিয়াল প্যারিস হাইড্রা কেয়ার, প্যান্টিন প্রো-ভি হেয়ার ফল কন্ট্রোল, এবং হার্বাল এসেন্সেস বায়ো রিনিউ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন